দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দাফনের আড়াই বছর পর আদালতের নির্দেশে মালয়েশিয়া প্রবাসী ইমন হোসেনের (৪২) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পূর্বাচল কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
আদালতের নির্দেশে পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ-আল-সোহানের তত্ত্বাবধানে আনসার সদস্য, রূপগঞ্জ থানা পুলিশ, ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচলের বরকাউ গ্রামের বাসিন্দা ইমন হোসেনের সঙ্গে ২০০৬ সালে কেরানীগঞ্জের পূর্ব মুগারচর গ্রামের রানু আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কয়েক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ অবস্থায় ইমন মালয়েশিয়ায় চলে যান।
২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি দেশে ফেরার পরদিন অসুস্থ হয়ে রাজধানীর মহাখালী কলেরা হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই দিন ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ পূর্বাচল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরে ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল ইমনের বাবা মজিবুর রহমান আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পরিকল্পিতভাবে ইমনকে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় ইমনের স্ত্রী রানু আক্তার, শ্বশুর হযরত আলী, শাশুড়ি পিয়ারা বেগম ও শ্যালক ভুলু মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি কেরানীগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় সিআর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মরদেহ উত্তোলন ও তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই।
মামলার বাদী মজিবুর রহমানের দাবি, পারিবারিক বিরোধ এবং ইমনের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ-আল-সোহান বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/